ঢাকার আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মার্কেট দখলের চেষ্টা এবং হামলার আশঙ্কার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব আশুলিয়ার শ্রীপুরে অবস্থিত মাদ্রাসা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাদ্রাসার উপ-পরিচালক সৈয়দ সানজিদ।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ সানজিদ অভিযোগ করেন, জাকির, ইমাম হাসান ও হুমায়ুন নামের তিন ব্যক্তি তাদের সৈয়দ আলী আশরাফ ট্রাস্টের মালিকানাধীন মাদ্রাসা ও সংলগ্ন মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইমাম হাসান বর্তমানে ওই মার্কেটের দোকানগুলো থেকে ভাড়া আদায় করছেন। এ অর্থ বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সৈয়দ সানজিদ জানান, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মার্কেটের দোকানদারদের ভাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিকেল ৫টার দিকে ফোনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, কয়েকজন ব্যক্তি মাদ্রাসা ও সংলগ্ন মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে মাদ্রাসা ও মার্কেটে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং মাদ্রাসা ও মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে জাকির হোসাইন বলেন, তাকে উদ্দেশ্য করে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তার সন্তান ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও তিনি বর্তমানে ওই মাদ্রাসায় যেতে পারেন না। এর আগে মাদ্রাসা এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং ওই ঘটনায় তার হাত ভেঙে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
জাকির হোসাইন আরও জানান, তিনি একসময় ওই মাদ্রাসার বোর্ডের অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদ্রাসা কিংবা সংলগ্ন মার্কেট দখলে নেওয়ার চেষ্টা বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এবং যারা সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছে তারাই প্রকৃতপক্ষে দখলদার তারা আসলে মাদ্রাসার কেউ না দাবি করে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অপর দুই অভিযুক্ত ইমাম হাসান ও হুমায়ুনের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
