সিলেটে প্রণবকান্তি দেব রচিত ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’ গ্রন্থকে ভ্রমণের ভাঁজে শিক্ষা, গবেষণা ও জীবনের গল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘পাঠের শেষে’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেটের বাতিঘরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’ প্রচলিত অর্থে শুধু একটি ভ্রমণকাহিনী নয়; এটি একজন শিক্ষক ও গবেষকের একাডেমিক পথচলার অভিজ্ঞতার দলিল। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সম্মেলন ও মানুষের সঙ্গে লেখকের যোগাযোগের অভিজ্ঞতা বইটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, বইটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো লেখকের অভিজ্ঞতার নির্মোহ বয়ান। এতে ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি শেখার অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, উপলব্ধি ও আত্মঅনুসন্ধানের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। ফলে এটি শুধু ভ্রমণের গল্প নয়, বরং একজন শিক্ষকের দেখার, চিন্তার ও শেখার গল্প।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ড. মোস্তাক আহমাদ দীন বলেন, বইটিতে একাডেমিক ভ্রমণ, গবেষণা ও জ্ঞান অনুসন্ধান একসঙ্গে এসেছে। নতুন জায়গা ও মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে নতুন চিন্তার যে জন্ম হয়, লেখক তা সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বইটি গবেষণায় যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মু. আনোয়ার হোসেন রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক পার্থ তালুকদার। সমাপনী বক্তব্য দেন লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ। লেখক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রণবকান্তি দেব। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অভ্র প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী অপূর্ব শর্মা।
বাংলাদেশ বেতার সিলেটের ঘোষক ও সংবাদ পাঠক রোহেনা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় হৃদ্যিক দেব পুণ্যের কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। আলোচনা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিংকন দাশ ও আশরাফুল ইসলাম অনি। সিলেটের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক আলোকিত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
