দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপের আশপাশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যেন পার পেয়ে না যায়, সে জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় একটি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করছেন। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকার পূজার ছুটি ও আর্থিক বরাদ্দ বাড়িয়েছে। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সহযোগিতার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় রুখে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধামরাইয়ের প্রতিটি পূজামণ্ডপে কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের সহযোগিতায় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। যার যার ধর্ম সে পালন করবে, আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগের দিন থেকে তিনি সাভার, ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে আনন্দ-উৎসাহের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করছেন।
সভায় ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, অতীতে তাঁদের ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান তাঁরা।
তিনি বলেন, ১১ তারিখ সন্ধ্যায় মন্ত্রী ও তাঁদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন উপস্থিত ব্যক্তিরা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তাঁরা সব ভোট পেয়েছেন।
তমিজ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, জেলা পরিষদ, জিআর চাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন স্থানে অনুদান দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সব সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছেন।
ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগের দিন ঢাকা মহানগরীর দুটি স্থানে গিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে যাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা এবং সরকার গঠনে সহায়তার মধ্য দিয়ে জনগণ যে আস্থা রেখেছেন, কাজের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে চান তাঁরা।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে সব মতের মানুষকে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বিএনপির নেতা তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথাও জানান জেলা পরিষদের প্রশাসক। এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
