প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া এলাকায় বন বিভাগের উদ্ধার করা প্রায় ১০ একর উচু-নিচু পাহাড়ী জমিতে ১০হাজারের অধিক বৃক্ষ রোপণ করে দৃষ্টিনন্দন বনায়ন সৃষ্টি করেছে রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো: তবিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর কার্যক্রমের ঘোষণার পরেই রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলায় আমরা বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম শুরু করি। তিনি জানান, এই কর্মসূচী বর্তমানেও চলমান রয়েছে, এখন আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত পাহাড় পরিস্কারসহ রোপণকৃত চারাগুলোর পরিচর্যা করছি।
রাঙ্গামাটি জেলা শহর থেকে কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া সৃজনী স্কুলের রাস্তা দিয়ে মুল সড়ক থেকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে যাওয়ার পর কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া মৌজার কলমপতি বিটের খাসখালী রেঞ্জের দখলমুক্ত করা ১০একর বনভূমিতে দেখা যায়, হাজার হাজার প্রায় ৫০ প্রজাতির রোপণকৃত গাছের চারা। বনজ, ফলজ ও ঔষুধী গাছের চারাসহ বিলুপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির চারা নিয়ে এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে সংরক্ষণমূলক বাগান।
এই বাগানে লাগানো চারার মধ্যে রয়েছে গোদা, গুটগুটিয়া, বৈয়লাম, চাপালিশ, ঢেউয়া, সিভিট কদম, চারমুগড়া, বাঁশপাতা, বট, পাকুড়, জগডুমুর, অর্জুন, সোনালু, উদাল, মায়লারম, ঐরিয়াম ও মুহুয়া’, ‘শরিফা, আতা, গোলাপ জাম, ঢাকি জাম, ত্রিপলা, আমলকি, বহেরা, চালতা, কাঁঠাল, দেশী আম, জারুল, দেশী গাব, বিলাতি গাবসহ নানা প্রজাতির গাছ। আর এই বাগান সৃজনের ফলে স্থানীয় শ্রমজীবি মানুষেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই বাগানে কাজ করছে স্থানীয় অনেক শ্রমিক।
বাগানে কাজ করা শ্রমিকরা বলেন, পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে এ ধরনের বাগান সৃজনের ফলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এই বাগানে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কাজ করছি। এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়াতে আমরা যে বাগান গড়ে তুলেছি, তা ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাহাড়ি বনজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বীজ উৎপাদন নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি আমরা খাসখালী রেঞ্জ এলাকায় বীজ ও নতুন চারা উৎপাদন করছি এবং উৎপাদিত নতুন চারাগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছি। তিনি জানান, দখলমুক্ত করা ১০ একর বনভূমিটি এখন সবুজায়নের আওতায় আসার পাশাপাশি পাহাড়ে বিলুপ্তপ্রায় গাছের প্রজাতি সংরক্ষণে দেশের একটি গুরুত্বপুর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া খাসখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আব্দুল জলিল জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই রেঞ্জের আওতায় ১০ একর জমিতে প্রায় ১০ হাজার ৫শত চারা রোপণ করা হয়েছে। অন্যান্য জবরদখলকৃত বনভূমি দখলমুক্ত করে সেসব জমিও বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে এই রেঞ্জের মাধ্যমে বীজ ও নতুন চারা উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেসব চারা লাগানো হয়েছে সেগুলো নিয়মিত পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষনিক বন বিভাগের লোকজন কাজ করছে। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ আশানুরুপ বৃক্ষ রোপণের টার্গেট পুরণ করতে পারবে।
রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো: তবিবুর রহমান আরো বলেন, বন বিভাগ কর্তৃক সৃজিত এ বাগানটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশের কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতিপূর্বে এই বাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জাতীয় বৃক্ষ রোপন সেলের সদস্য ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশির জেবি। তিনি এই বাগানটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সহকারী বন সংরক্ষক মো: তবিবুর রহমান আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কয়েকটি কর্মসূচীর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো সারাদেশে ২৫কোটি বৃক্ষ রোপন।
বৃক্ষরোপনের অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে এসব বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কর্মসূচিটি তদারকি করা হচ্ছে। বেতবুনিয়ার এই বাগানটি সম্পর্কে সবসময় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার এ বাগান ভবিষ্যতে পাহাড়ি বনজ উদ্ভিদের বীজ ও চারা সংরক্ষণ, গবেষণায় এবং পাহাড়ের জীব বৈচিত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশের এক দশমাংশ অঞ্চল জুড়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থান। এই অঞ্চলের অব্যবহৃত ও জবরদখলকৃত ভূমি বৃক্ষ রোপণের আওতায় আনা গেলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের যে টার্গেট রয়েছে তার অনেকাংশ টার্গেট পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
জীব বৈচিত্র রক্ষা, সবুজায়নসহ বৃক্ষ রোপণে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পাহাড়ের সম্ভাবনাময় অঞ্চলকে কাজে লাগাতে এখন প্রয়োজন সরকারের কার্যকর উদ্যোগ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
