প্রতিমা বিসর্জন ও দেবী দুর্গাকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আনন্দ-উৎসবের সমাপ্তিতে মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে আসে বিষাদের আবহ। দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভক্তরা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৬৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর জেলায় ১৫৯টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জে ৫১টি, গোমস্তাপুরে ৩২টি, নাচোলে ১৭টি এবং ভোলাহাটে তিনটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, জেলার ১৬৪টি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। পূজা উপলক্ষে প্রতিদিন ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পাঁচ দিনের আয়োজনে ভক্তদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
এদিকে, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সর্বত্র নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত ছিল।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি চালায়। গুজব, উসকানি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। এ উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। কোথাও শোভাযাত্রার মাধ্যমে, আবার কোথাও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়।
বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা। মানুষের মনের হিংসা, ক্রোধ ও অসুরিক প্রবৃত্তি পরিহার করে সত্য, সুন্দর ও শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় এ উৎসব। পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হলেও সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকবে এমন প্রত্যাশা ভক্তদের।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
