ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

ষষ্ঠ দিনে সাজেকে অবরোধ, বৈঠকে মেলেনি সমঝোতা: থমকে গেছে পর্যটন

সারাদেশ | মিল্টন বাহাদুর। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

(৪৭ মিনিট আগে) ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:০১ অপরাহ্ন

banglahour


রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে, স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পর্যটন এলাকা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আন্দোলনকারী দুটি সংগঠন-‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতাদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় সংলাপ ব্যর্থ হয়।


আন্দোলনকারীদের প্রধান দুই দাবি হলো-সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা।
বৈঠক শেষে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দাবি আদায়ে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


এর আগে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যরা পাহাড়ে চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংলাপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত ২৫ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হেডম্যান ও কারবারিদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতা কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সংকটের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।


আর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ পর্যটকদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুরক্ষায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ির দিকে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পর্যটনকেন্দ্রটি পুরোপুরি জনমানবহীন ও স্থবির হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবরের অবরোধের পর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ শিথিল ছিল। কিন্তু ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অবরোধ শুরু হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে সাজেক।


জানা গেছে, জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকের অর্থনীতি পুরোপুরি পর্যটন নির্ভর। টানা অবরোধে রিসোর্ট-কটেজ, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা খাত মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বুকিং বাতিল হওয়ায় সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আওতাধীন প্রায় ১৩০টি কটেজ এখন ফাঁকা পড়ে আছে।
সাজেকের রুইলুই রিসোর্টের পরিচালক মিশু দে বলেন, পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই এমন অচলাবস্থা চলায় ব্যবসায়ী, কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
একই সুর সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ট্রিপুরা জানান, আমাদের কটেজগুলো পর্যটকশূন্য। রেস্টুরেন্ট, ভাসমান দোকানসহ শত শত মানুষ এখন বেকার। স্থানীয় পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত ফলফলাদি ও ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। সাজেক এখন এক প্রকার অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘায়িত এই অচলাবস্থার কারণে কর্মচারীদের বেতন, যানবাহন পরিচালনা খরচ এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।


পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি এবং পর্যটন অর্থনীতিকে রক্ষা করতে অতি দ্রুত সব পক্ষের উপস্থিতিতে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম