ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

খুলনা সাইলো সুপারের এজাহারে রহস্য জনক ভাবে অজ্ঞাতনামা আসামি, মামলা নং-১; বন্ধ লোড-আনলোড কার্যক্রম

সারাদেশ | শেখ লিয়াকত হোসেন,ব্যুরো প্রধান খুলনা।

(৮ ঘন্টা আগে) ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৯:৩০ পূর্বাহ্ন

banglahour


স্টাফ রিপোর্টলর ঃ খুলনার দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে অবস্থিত খাদ্য অধিদপ্তরের স্টিল সাইলো থেকে দুই ট্রাক সরকারি গম পাচারের চেষ্টার অভিযোগে অবশেষে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আটক এইচ এম আল ইমরান ও মোঃ রাজিবকে এ মামলায় আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সাইলো সুপার অরূপ কুমার মিশ্র বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
দৌলতপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১। দণ্ডবিধির ৩৮০/৫১১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহেশ্বরপাশা স্টিল সাইলোতে সাইলো সুপার হিসেবে কর্মরত অরূপ কুমার মিশ্র গত ২ নভেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ খালাসসংক্রান্ত সভায় যোগ দিতে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। 

ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সাইলোর ফোরম্যান আব্দুর রহমান মোবাইল ফোনে তাঁকে জানান, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি দুটি ট্রাক নিয়ে সাইলোর ভেতরে প্রবেশ করে এলইউএ রেজিস্টার খাতায় কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ না করেই গোডাউনে সংরক্ষিত বস্তাভর্তি গম ট্রাকে তোলার চেষ্টা করছেন। তাৎক্ষণিক দুটি ট্রাক গম ভর্তি করে উপরের ত্রিফল দিয়ে বেঁধে ফেলেছে।তৃতীয় গাড়িটি লোড শুরু হয় তখন ছয় বস্তা গম গাড়িতে তোলা হয়।
এ সময় সাইলোর অপারেটর প্রদীপ কুমার মণ্ডল তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাঁরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সাইলো সুপার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং গম লোড বন্ধ করে পুলিশকে খবর দেওয়ার নির্দেশ দেন।


এজাহারে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গম লোডের চেষ্টায় থাকা ব্যক্তিরা ট্রাক ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় খুলনার ডিসি ফুড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ দুটি ট্রাক আটক করে। ট্রাক দুটির নম্বর যথাক্রমে খুলনা মেট্রো-ট-১১-১১০৯ এবং যশোর মেট্রো-ট-১১-২০০। প্রতিটি ট্রাকে আনুমানিক ৪০০ বস্তা করে মোট ৮০০ বস্তা গম ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো সরকারি খাদ্যশস্য সাইলো থেকে বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে বাদী জানিয়েছেন।


এদিকে বুধবার (৪ নভেম্বর) মহেশ্বরপাশা স্টিল সাইলো ও খাদ্য গুদাম (সিএসডি) অভ্যন্তরে শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। বন্ধ রয়েছে খাদ্যশস্যের লোড-আনলোড কার্যক্রম। ফলে গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরাদুল ইসলাম প্রবাহ প্রতিবেদককে জানান, মহেশ্বরপাশা মানিকতলা স্টিল সাইলো থেকে দুই ট্রাক গম পাচারের চেষ্টার ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে সাইলো সুপার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সাইলোতে সিসি ক্যামেরা থাককা সত্ত্বেও অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলার বিষয়টি রহস্য জনক মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল। ফুটেজ দেখে কারা এ গমপচাচার করার চেষ্টা করেছে তাদের সনাক্ত করে নাম দেয়া সম্ভব ছিল। এবিষয়ে সাইলো সুপার সদুত্তর দিতে পারেন নি। 


অপরদিকে এ মামলায় আটক মোঃ ইমরান হোসেন ও মোহাম্মদ রাজিবকে আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। 

এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।পূর্বের মামলার প্রসঙ্গ
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক এইচএম আল ইমরান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল চুরির অভিযোগে একটি সিআর মামলা দায়েরের তথ্য রয়েছে। মামলাটি ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে দাখিল করা হয়। দৌলতপুর থানা,মামলা নম্বর-১০১। দণ্ডবিধির ৩৮১/৪০৬/৪২০/৪৬৮/৪৭১/৫০৬/১০৯ ধারায় দায়ের করা ওই মামলাটি বর্তমানে খুলনা পিবিআই তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।


তবে পূর্বের মামলার অভিযোগ এবং স্টিল সাইলোতে গম পাচারের চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা বর্তমান মামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। তবে শ্রমিকরা কর্মকর্তাদের নানা বিষয়ে নিয়ের অনিয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম