দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পটি সমাপ্ত হলে মোংলা বন্দরের পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ মেগা প্রকল্পে চীন সরকার এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সফট লোন সহায়তা প্রদান করছে। প্রকল্পটির ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)।
২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে সিআইডিসিএ এবং ইআরডি-র মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে, যার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এছাড়া ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার আয়তনের লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটার আয়তনের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটার আয়তনের বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদল আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাৎকালে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও সিআরসিসি-এর মধ্যে একটি বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা অঞ্চল সফর করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন। আজকের অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগ প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব মোঃ আতাউর রহমান খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
