দেশের প্রতিটি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
তিনি বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আইটি খাতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। তরুণরা দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) কুমিল্লার পুলিশ লাইন কনভেনশন হলে কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘উড়ান-৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউট গত পাঁচ বছর ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে। এখানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দক্ষতা বিকাশে কাজ করছেন। আগামী দিনে দেশ পরিচালনা ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে এসব তরুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তরুণদের নৈতিকতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু ভালো কাজগুলো যথাযথভাবে তুলে না ধরায় অনেক সময় নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বেশি আলোচনায় আসে। তরুণদের ইতিবাচক উদ্যোগ ও সাফল্য সামনে নিয়ে আসতে হবে।
কৃষি খাতের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক যেন উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে কৃষক জানেন না বাজারে কী পরিমাণ পণ্যের চাহিদা রয়েছে, আবার বাজারও জানে না প্রকৃত উৎপাদনের পরিমাণ। সরকারও সঠিক তথ্যের সমন্বয় করতে না পারলে কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন। তাই কৃষিসহ প্রতিটি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণে দেশে স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান এবং দেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। যেসব কৃষিপণ্য এখনো আমদানি করতে হয়, ভবিষ্যতে সেগুলো দেশেই উৎপাদন করে রপ্তানির উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশটি আপনাদের। বর্তমান সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তরুণরা উদ্ভাবনী ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এলে সরকার সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতা দেবে। কৃষি খাতকেও তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে। শহর কিংবা গ্রামের যেখানেই থাকুন, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হোসেন মিয়া, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী আক্কাস, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল জলিল, আইসিটি আইএসসি-এর সিইও বরেন্দ্র অধিকারী ও জেলা আইসিটি কর্মকর্তা বসির আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। পরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইসিটি ইনস্টিটিউটের সিও হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা জয়ব্রত ঘোষ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
