বরিশালের হিজলা উপজেলায় বিয়ের পর দীর্ঘ ৭ বছরে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পাষান্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামীর কাছে বারবার আকুতি-মিনতি ও পায়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত স্বামীর মন গলাতে পারেননি ওই নারী। এমনকি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপস্থিত থানা পুলিশের সামনে স্বামীর পায়ে ধরেও সংসার রক্ষার চেষ্টা করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে মাসকাটা গ্রামে।
পাষান্ড স্বামীর বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাবনের চর, বর্তমান তিনি ঢাকা নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার চৌদ্দ পাইকা গ্রামে পরিবার সহ বসবাস করে। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ বছর পৃবে পারিবারিক ভাবে ঐ দম্পতির বিবাহ হয়। বিবাহিত জীবনে সন্তান না হওয়াটা ছিল স্ত্রীর অপরাধ।
ওই দম্পতির দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে রেখে দেন। দীর্ঘদিন খোঁজখবর না রাখার হিজলা থানায় মেয়েটি অভিযোগ করেন। তখন থানা পুলিশকে জানিয়েছে স্ত্রীর সন্তান হয়নি তাই তাকে নিয়ে সংসার করবে না।
তখন থানা পুলিশ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে অসহায় মেয়েটিকে নিয়ে সংসার করার অনুরোধ জানান।পাষান্ড স্বামীর কারো কথায় তোয়াক্কা করেনি।
তখন সকলের উপস্থিতিতে অসহায় স্ত্রী স্বামীর পায়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাকে যেনো ছেড়ে না দেয়। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী ইতির অভিযোগ, তিনি স্বামীর সংসার করতে চেয়েছিলেন। সম্পর্ক ভেঙে না দেওয়ার জন্য স্বামীর কাছে অনেক অনুরোধ করেছেন। এমনকি সংসার রক্ষার আশায় স্বামীর পায়ে ধরেও আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো অনুরোধেই স্বামীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
পাষান্ড স্বামী রনি বলেন আমার স্ত্রীর কোনো সন্তান হবে না। তাই তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। এখানে সমস্যা কোথায়?
এ ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সন্তান না হওয়ার দায় একজন নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সন্তান না হওয়ার পেছনে নারী কিংবা পুরুষ—উভয়েরই প্রজননগত কারণ থাকতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাউকে এককভাবে দায়ী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
