ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

খরস্রোতা তিস্তা এখন জেলেদের দুর্দিনের নাম

সারাদেশ | অনলাইন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ৩১ মার্চ ২০২৪, রবিবার, ১:৪২ অপরাহ্ন

banglahour

রংপুরের কাউনিয়ায় এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ না থাকায় নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীতে পানি না থাকায় শত শত মাঝি ও তিস্তা পাড়ের মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছে।

এক সময় নৌকা চালিয়ে কাউনিয়া ও রাজারহাট এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার শত শত মাঝি জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। বর্তমানে সে নদীর উজানে ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করায় এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তা এখন পানি শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীকে ঘিরে কাউনিয়ার সভ্যতার ক্রমবিকাশসহ শত শত মানুষ একসময় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। নদীতে পানি না থাকায় কাউনিয়া থেকে রাজারহাট, কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারী বন্দর পর্যন্ত নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌকার মাঝিরা বেকার হয়ে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কাউনিয়ায় নিজপাড়া মাঝিপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবীরা বাপ-দাদার আমল থেকে তিস্তা নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ ধরে তা বিক্রি করে জীবন চালিয়ে আসছিলেন। জেলেরা জানান, বর্তমানে আর এ পেশায় থাকা যাচ্ছে না, তিস্তা নদী আর নদী নাই, চর পরে মরা খালে পরিণত হয়েছে। জীবন বাঁচাতে আমাদের এ পেশা অনেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা সত্য বাবু জানান, ‘আগে তিস্তা নদীতে হরেক রকমের মাছ পাওয়া যেত, তার মধ্যে বিখ্যাত ছিল বইরাতি মাছ। তিস্তার মাছ অনেক সুস্বাদু হওয়ায় কেনার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসত আর আমরা মাছ বিক্রি করে আনন্দের সঙ্গে জীবন চালাতাম। এখন তিস্তা নদীতে পানি নাই আমাদের সেই দিনও আর নাই।’

বালু তোলায় ছোট যমুনা নদীর সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ
মাছের আড়তদার ভোলা রাম বর্মন জানান, ‘একটা সময় ছিল তিস্তা নদীর মাছ কেনার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসত আড়তে। এখন নদীতে পানি নেই, সেই মাছও নেই, ক্রেতাও নেই। নদীতে মাছ না থাকায় ব্যবসা আর আগের মতো চলে না তাই ৪-৫জন কর্মচারীকে বাদ দিয়ে দিয়েছি, আবার অনেক ব্যবসা’ই বাদ দিয়েছে। নদীটি ড্রেজিং করলে হয়তো কিছু পানি থাকত, তখন কিছু মাছ পাওয়া যেত।’

পাঞ্জর ভাঙ্গা গ্রামের নৌকার মাঝিরা জানান, প্রায় চার মাস থেকে নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তখন থেকে নৌকা না চলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারিভাবে তাদের কোনো সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। অনেকে বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। যারা দিন মজুরির কাজ করতে পারছে না তারা বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে।

নদীতে পানি না থাকায় বোরো চাষও হুমকির মধ্যে পড়েছে। সরকার দফায় দফায় তিস্তার পানি চুক্তি ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বললেও তা বাস্তবতার মুখ দেখছে না।

কাউনিয়া এলাকার সকল মৎস্যজীবী, মাঝিমাল্লাসহ সাধারণ মানুষ তিস্তা নদীর হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯