পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙনে শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। নদীভাঙনে প্রায় ২০০ একর জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে, অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাহেরচরের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুধান চন্দ্র মিস্ত্রী জানান, এই ভাঙনের ফলে তাদের পরিবারকে ৫ বার বসতবাড়ি স্থানান্তর করতে হয়েছে। বর্তমানে তারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। অনেকেই বসতঘর সরিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিচ্ছেন।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন গাজী জানান, কিছুদিন আগে বড় এলাকা ফাটল ধরে নদীতে দেবে যায়, ফলে তিনজনকে উদ্ধার করতে হয়। এতে একজন মহিলা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এ পর্যন্ত এই এলাকার প্রায় দুই’শ একর জমি, তিন শতাধিক ঘর, ৩টি মসজিদ, ৪টি মন্দির, একটি সরকারি অফিসসহ রাস্তাঘাট পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান সোহরাব। তিনি নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী পাইলিং এবং ব্লক ফেলার দাবি জানিয়েছেন।
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসে পুনরায় জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
