কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে গোপন বৈঠকের অভিযোগে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১৯ জন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় অবস্থিত ইউনি রিসোর্টের ৫ম তলার হল রুম থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যরা গোপন বৈঠক করছিলেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশ ও সমন্বয়ক পরিচয়ধারী লোকজন উপস্থিত থেকে হল রুমটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়। পুলিশ জানায়, বৈঠকে প্রায় ৭০ জন ইউপি সদস্য ছিলেন, তবে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক সদস্যদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, হোটেলে পুলিশের অভিযান চালানোর কারণে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেক পর্যটক হোটেল থেকে বের হয়ে যান। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, অভিযানের সময় পাওয়া সমন্বয়ক পরিচয়ধারী অর্ধশতাধিক লোকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আটক হওয়া টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জহির আহমেদ বলেন, "আজ আমাদের মেম্বারস অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা ছিল, যাতে প্রায় ৭০ জন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আমরা দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের জন্য কিভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। কোনো গোপন বৈঠক ছিল না। হঠাৎ করে পুলিশ এসে আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে আটক করে।"
পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া মহেশখালীর ইউপি সদস্য সেলিম এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আমাদের মেম্বারস অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভায় সব দলের সদস্যরাই ছিলেন, অথচ এভাবে আমাদের ভাইদের আটক করা হলো।"
এই ঘটনায় ডাকা গোপন বৈঠকের অভিযোগ নিয়ে কক্সবাজার জুড়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
