সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দেড় হাজার টাকা শোধ করতে না পারায় শফিক আলম শাহ (৪৩) নামের এক হতদরিদ্র কৃষকের আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার তাহিরপুর থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পরিবারের দাবি: পিটিয়ে হত্যা
মৃত শফিক আলমের পরিবারের অভিযোগ, তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়নি বরং চাচাতো ভাই সাকু শাহ তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
শফিক আলম তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের নুরুল ইসলাম শাহের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে গেছেন।
ধার শোধে চাপ এবং লাঞ্ছনার অভিযোগ
পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, শফিক আলম তার চাচাতো ভাই সাকু শাহের কাছ থেকে কয়েক দিন আগে দেড় হাজার টাকা ধার নেন। সোমবার রাতে সাকু শাহ পাওনা আদায়ে শফিকের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং প্রতিবেশীদের সামনে তাকে লাঞ্ছিত করেন। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে রাত ৯টার দিকে শফিক আলম ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।
পরিবারের বক্তব্য
মৃতের বড় ভাই জহুর আলম শাহ সাংবাদিকদের বলেন, "সাকু শাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা আমার ভাইকে পাওনা টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।"
পুলিশের বক্তব্য
তাহিরপুর থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন এসআই মো. আবুল কালাম চৌধুরী। ওসি আরও জানান, "পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে হত্যা মামলা রুজু করা হবে।"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
