ভারত-পাকিস্তান চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলে মসজিদে হামলার অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তথ্য শাখা আইএসপিআর জানায়, বেছে বেছে স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের পাশাপাশি মসজিদগুলোতেও হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। এতে বেশ কয়েকটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে এবং মুসল্লিরাও নিহত হয়েছেন।
মুজাফফরাবাদের ঐতিহ্যবাহী বিলাল মসজিদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। হামলায় এক কিশোরী আহত হয়েছে। আহমেদপুর সুবহান মসজিদ এবং কোটলির আব্বাস মসজিদে হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন মুসল্লি। এছাড়া মুরিদকেতের একটি মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি ধর্মীয় অবমাননার এক জঘন্য দৃষ্টান্ত এবং নিরীহ মুসলমানদের ওপর ইচ্ছাকৃত আঘাত।” তিনি আরও জানান, হামলায় অন্তত ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে আজাদ কাশ্মীরে ভারতের বর্বর হামলায় প্রাণ হারিয়েছে এক নিষ্পাপ শিশু, যিনি পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা কর্নেল জহির আব্বাস তুরির সন্তান। শিশুটির মৃত্যুতে পাকিস্তানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতের হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নীলম-ঝেলম বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এই বাঁধকে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইএসপিআর প্রধান।
এই সংঘাতের মধ্যেও দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা শান শাহিদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “পাকিস্তানি শিল্পীদের উচিত নয় ভারতের সঙ্গে কাজ করা। আত্মমর্যাদা ও দেশের সম্মান কোনো অর্থ বা খ্যাতির বিনিময়ে বিসর্জন দেওয়া যায় না।”
ভারতের পক্ষ থেকে এখনও এসব হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
