ঢাকা, ২৮ মে ২০২৫ — জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘অল্প সংস্কার বনাম বেশি সংস্কারের’ শর্তে দেশ ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দাবি, জনগণের মধ্যে বিশ্বাস জন্ম নিচ্ছে—সংস্কার নিয়ে যে সময়ক্ষেপণ চলছে, এর পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে-বাইরে কারও কারও ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
বুধবার ঢাকায় বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের উচিত আগামী নির্বাচনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি গ্রহণ করা। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও নির্বাচিত সরকার দরকার।”
তার বক্তব্যে উঠে আসে সদ্য আলোচিত ইশরাক হোসেনকে নিয়ে আদালতের রায়ের বিষয়টিও। তিনি অভিযোগ করেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে যেভাবে ইশরাককে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা পলাতক স্বৈরাচারের সময়ের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা আদালতের রায় মানে না, তাদের কাছ থেকে সংস্কার আশা করাটাই কি অবাস্তব নয়?”
তারেক রহমান আরও বলেন, “পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে ব্যক্তিমানসিকতার সংস্কার জরুরি। ইশরাকের শপথে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।”
উল্লেখ্য, সরকার পতনের পর ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মার্চ ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করে। পরে তার শপথ গ্রহণে স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়, যা ২২ মে খারিজ হয়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি নতুন স্লোগান দেন, যা রাজনৈতিকভাবে দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি বলেন:
“দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ... সবার আগে বাংলাদেশ।”
এই স্লোগানটি দিয়ে তিনি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
তার এ বক্তব্য বিএনপির আগামী দিনের কৌশলে ‘জাতীয়তা বনাম বিদেশ নির্ভরতা’ প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে আসার ইঙ্গিত বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
