ঢাকা, ৬ জুন — মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হলেও এর আয়োজন, পশু নির্বাচনে এবং সামাজিক রীতিতে রয়েছে বৈচিত্র্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিমরা ঈদুল আজহা পালন করেন। দিনটি শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে, এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে কোরবানির মূল প্রাণী উট ও গরু
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানে কোরবানির সময় উট, গরু, ছাগল এবং দুম্বা কোরবানি দেওয়া হয়। হজের কারণে সৌদি আরবে এই সময় পশু কোরবানির পরিমাণ থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে উট ও গরুর দাম ঈদের সময় বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে স্ট্যাটিস্টা। আরব আমিরাতে আমদানি করা গরু ও ছাগলের চাহিদাই বেশি। তবে অভিজাত পরিবারগুলো মাঝে মাঝে উট কোরবানি দেয়।
পাকিস্তানে ছাগল ও গরু প্রধান, কোরবানি বাড়ির সামনেই
পাকিস্তানে ছাগল, গরু ও ষাঁড়ের কোরবানি বেশি দেখা যায়। ২০২৩ সালে দেশটিতে ছয় মিলিয়নের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী মানুষ নিজের বাড়ির সামনের রাস্তাতেই ধাবিহা পদ্ধতিতে কোরবানি দিয়ে থাকেন। কালো মাথার ভেড়াও কিছু অঞ্চলে জনপ্রিয়।
ভারতে বিধিনিষেধ, ছাগল ও মহিষই ভরসা
ভারতে মুসলমানদের কোরবানির ক্ষেত্রে রয়েছে নানা আইনগত বাধা। অধিকাংশ রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ। কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ ও কয়েকটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যে গরু কোরবানি করা গেলেও বেশিরভাগ মুসলিম ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেন। নিরাপত্তা ও সহিংসতার আশঙ্কায় গরু পরিবহনেও রয়েছে ঝুঁকি।
ইন্দোনেশিয়ায় গরু-ছাগল, সৌদি সময় অনুসরণে কোরবানি
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় গরু ও ছাগল কোরবানি হয় সবচেয়ে বেশি। সৌদি আরবে যেদিন কোরবানি হয়, অনেক ইন্দোনেশীয় মুসলিম সেই দিনটিকে অনুসরণ করে। কোরবানির মাংস বিতরণে এলাকায় এলাকায় রয়েছে নানা রীতি, কোথাও আত্মীয়দের মধ্যে, কোথাও দরিদ্রদের মধ্যে অগ্রাধিকার দিয়ে ভাগ করা হয়।
তুরস্কে কসাইখানাভিত্তিক কোরবানি, সমান তিন ভাগে মাংস বণ্টন
তুরস্কে কোরবানিকে বলা হয় ‘কুরবান বায়রামি’। তুর্কিরা সাধারণত গরু, ছাগল ও ভেড়া কসাইখানায় নিয়ে গিয়ে কোরবানি করেন। প্রাপ্ত মাংস তিন ভাগ করে নিজেদের, আত্মীয়-প্রতিবেশী এবং গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। দেশটির দাতব্য সংস্থাগুলো এসব মাংস আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও পাঠায়।
আফ্রিকায় জনপ্রিয় ভেড়া, নাইজেরিয়ায় ‘দুর্বার’ উৎসব
আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ নাইজেরিয়ায় ঈদুল আজহাকে বলা হয় ‘ঈদুল কাবির’। এখানকার মানুষ ভেড়া কোরবানিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। উত্তরের কিছু অঞ্চলে গরু ও উটও কোরবানি দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত ‘দুর্বার’ উৎসবে মানুষ ঘোড়ায় চড়ে, গান-বাজনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে অংশ নেয়।
বিশ্বজুড়ে ঈদুল আজহার বৈচিত্র্যময় রীতিনীতি প্রমাণ করে, ইসলামিক ঐক্যের মাঝে সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য কীভাবে সুন্দরভাবে একীভূত হয়ে গেছে। সকল মুসলমান এক উদ্দেশ্যেই কোরবানি করে—আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
