বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর এলাকায় একটি অবৈধ পশুর হাট বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ডিআইজি ও বর্তমানে ওএসডি থাকা জামিল হাসানের নাম ব্যবহার করে এই হাট পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এখনও চালু রয়েছে এই হাট।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, হাটটি পরিচালনায় বিএনপির নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে এটি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যবসায়িক স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন সেলিম মৃধা, মাহবুবুর রশিদ মেহেদী ও মোস্তফা কামাল মেম্বারের নাম।
সূত্র জানায়, উক্ত হাটের জন্য মাত্র ২৩ শতাংশ জমি নির্ধারিত ছিল যা হাট পরিচালনার জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল। এ কারণে বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি এক মতামত প্রদান করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়—বিভিন্ন আইনগত জটিলতার কারণে ওই স্থানে হাট বসানো সম্ভব নয়। বরিশালের জেলা প্রশাসককেও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল বরিশাল জেলা প্রশাসক উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। উল্লেখযোগ্য যে, এই হাটটি সরকার কর্তৃক ইজারাকৃত নয়, এবং কোনো খাস কালেকশন ব্যবস্থার আওতাতেও পড়ে না।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক ডিআইজি জামিল হাসান নিজের প্রভাব খাটিয়ে হাটটি সচল রেখেছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই অবৈধ কার্যক্রম স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণেই এ ধরনের অবৈধ হাট চলমান রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত হাটটি বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
