বান্দরবানে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার চিত্র ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাত ১২টার দিকে জেলা সদরের বালাঘাটার লেমুঝিরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে এবং স্কেবেটরসহ দুটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি পাহাড় খেকো চক্র রাতে পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহ করছে। জেলার লেমুঝিরি, বালাঘাটা, কালাঘাটা, বাকীছড়া, কুহালং ও তংপ্রু পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন রাত নামলেই স্কেবেটরের মাধ্যমে পাহাড় কেটে ড্রাম ট্রাকে করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রজ্ঞাসর বড়ুয়া পাপনের মালিকানাধীন পাহাড়ে কাটা চলাকালীন স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিক নয়ন চক্রবর্তী ও ফারুক হোসেন ছিদ্দিকী ঘটনাস্থলে যান এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় চক্রের সদস্য মো. ফারুক, আলী মিয়া ও মামুন তাদের উপর হামলা চালায়, এতে দুই সাংবাদিক আহত হন।
খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মো. ফারুক নামে একজনকে আটক করে। এসময় পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত একটি স্কেবেটর ও দুটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া সাংবাদিক ফারুক হোসেন ছিদ্দিকী বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং অবৈধ পাহাড় কাটার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এইচ এম সম্রাট ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন আঘাত। অবৈধ কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
