বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএফ) একজন মেজর পর্যায়ের কমান্ডারসহ দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন কেএনএফ সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুলাই) ভোররাতে রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের পলিপ্রাংশা এলাকায় সেনাবাহিনীর এই অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।
সেনাবাহিনীর ৩৬ বীর রুমা জোনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গত ২ জুলাই রাত ৯টার দিকে রুমা বাজার ক্যাম্প থেকে তিনটি টহল দল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যানবাহনসহ পলিপ্রাংশা এলাকার দিকে রওনা দেয়। অভিযানে গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টা কাজ করে।
পরে একই সময়ে মুন্নাম পাড়া ক্যাম্প থেকেও একটি টহল দল পলিপ্রাংশা অভিমুখে অভিযান শুরু করে। এসময় পলিপ্রাংশা ও মুয়ালপি পাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে টিকতে না পেরে কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়।
সংঘর্ষ শেষে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কেএনএফের দুই সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন মেজর পর্যায়ের কমান্ডার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়:
৩টি এসএমজি
১টি চাইনিজ রাইফেল
বিপুল পরিমাণ গুলি ও ম্যাগাজিন
গুলির পাউচ
সামরিক পোশাক
ওয়াকিটকি
মোবাইল ফোন
কয়েক হাজার নগদ টাকা
ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া চাইনিজ রাইফেলটি কোনো এক সময় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্রগুলোর একটি হতে পারে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উক্ত এলাকায় অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
