ফরিদপুর সদর (ফরিদপুর-৩) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের ঝিলটুলীস্থ বাড়িতে 'আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক হচ্ছে'—এমন অভিযোগ তুলে চড়াও হয়েছেন মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এ কে আজাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করেন সেখানে কোনো আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক চলছে কি না। গার্ডের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তারা ফিরে যান। এ সময় যুবদলের এক নেতা ভবিষ্যতে ‘আগুন লাগিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে মিছিলটি শহরের ভূমি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে মহানগর ও জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। শেষে কাঠপট্টি এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা আওয়ামী লীগের ‘পুনর্বাসন চেষ্টার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বক্তারা বলেন, “ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হলে তা দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে প্রতিহত করা হবে।”
এ ঘটনায় মন্তব্য করতে গিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমরা জানতে পারি সেখানে আওয়ামী লীগ গোপনে বৈঠক করছে। তাই পরিস্থিতি যাচাই করতে গিয়েছিলাম।” তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে।”
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা ও সম্ভাব্য প্রার্থী নায়াব ইউসুফ জানান, “আমি হিংসার রাজনীতি পছন্দ করি না। এ কে আজাদ আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করছেন এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তবে আমি কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।”
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, এ কে আজাদ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপদেষ্টা সদস্য ছিলেন, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
