পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা বান্দরবানে এসে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য পার্বত্য মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে পৌঁছালে জেলার প্রবেশমুখ হলুদিয়ায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সর্বস্তরের মানুষ মন্ত্রীকে ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তাকে স্বাগত জানিয়ে জেলার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয় শতাধিক তোরণ।
পরে বিকেলে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে গণসংবর্ধনা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।
তিনি বলেন, “বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নিরাপদ পানির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
মন্ত্রী বলেন, বান্দরবানের উন্নয়ন শুধু শহরকেন্দ্রিক হলে হবে না। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রীতির জেলা বান্দরবান—এটি বলা সহজ। তবে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পার্বত্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে রয়েছি। এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে শান্তি ও সম্প্রীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সাচিং প্রু জেরী বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতি ও সরকারের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেই পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। পার্বত্যবাসীর কল্যাণে সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় পার্বত্য জেলাগুলোও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টির কথাও জানান মন্ত্রী। পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা করে পর্যটন খাতকে আরও বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, দলমত নির্বিশেষে বান্দরবানের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি।
গণসংবর্ধনা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় জেলার সাত উপজেলা, দুই পৌরসভা ও ৩৪ ইউনিয়ন থেকে পাহাড়ি-বাঙালি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি একপর্যায়ে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. ওসমান গনি, আব্দুল মাবুদ, সাশৈপ্রু, মুজিবুর রশীদ, মশিউর রহমান মিঠুন, জাহাঙ্গীর আলম, জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক দৌলতুল কবীর খান, বিএনপি নেতা সাবিকুর রহমান জুয়েল, জেলা যুবদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ হোসেন জিকুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
