পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব তৌহিদুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে তিনি সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলা বিএনপি সহ পুরো পঞ্চগড় শহরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
মো,তৌহিদুল ইসলাম ১৯৫৩ সালে পঞ্চগড় শহরের মসজিদ পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮১ সালে সৈনিকের চাকরী হতে ইস্তফা দেন। এরপর ১৯৮৩ সালে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।এরপর ১৯৯৩ ও ২০০৪ সালে পঞ্চগড় পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং ২০০৮,২০১১ ও ২০১৬ সালে পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অসম্ভব মেধাবী ও কর্ম তৎপর এই মানুষটির কর্মের ছোঁয়া লেগে আছে পঞ্চগড় পৌরসভার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সামাজিক, ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে।
প্রায় তিন দশক থেকে তিনি পঞ্চগড় জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ পৌর বিএনপির আহবায়কের দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি যৌথ শ্রমিক ফেডারেশন পঞ্চগড় শাখার সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছিল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। কিন্ত জন্মদিনে শোকের ছায়া বিরাজ করছিল পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে। তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে সাদা কালো ব্যানারে ঢাকা ছিল জেলা বিএনপি কার্যালয়।নেই কোনো মিছিল, নেই কোনো মাইক,নেই ভোজ। কারন এতদিন যিনি নিজ হাতে বিএনপির বিভিন্ন আয়োজন সম্পন্ন করতেন সেই আয়োজক আজ আর নেই। সবাইকে বিদায় জানিয়ে তিনি আজ অনন্ত কালের যাত্রী।
তৌহিদুল ইসলাম পঞ্চগড়ের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে মিশে ছিলেন। তরুণদের মাঝেও তিনি অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার একান্ত রাজনৈতিক সহচর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তরুণ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক
বলেন, আমরা যা হারালাম তার ক্ষতি অপুরনীয়। তৌহিদুল ইসলাম ছিলেন পঞ্চগড় জেলা বিএনপির প্রধান খুটি। তিনি ছিলেন পঞ্চগড় পৌর বাসীর যোগ্য অভিভাবক।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো,রোকনুজ্জামান জাপান বলেন পঞ্চগড়ে সকল আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপির সকল কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান অর্থদাতা ছিলেন মরহুম তৌহিদুল ইসলাম। তার মত উদার ব্যক্তিদের ই রাজনীতিতে আসা উচিত।
পঞ্চগড় পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো,বাবুল হোসেন বলেন, তৌহিদুল ইসলামের সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। প্রতিটি ওয়ার্ডের বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি নাম ধরে চিনতেন। পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি তৌহিদুল চেয়ারম্যান নামেই পরিচিত ছিলেন ।
গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠে স্মরণকালের সর্বাধিক মুসল্লীর উপস্থিতিতে আলহাজ্ব তৌহিদুল ইসলামের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাযায় অন্যান্যরা সহ পঞ্চগড় -১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যরিষ্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড় -২ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি এক স্ত্রী, এক পুত্র ও চার কণ্যা রেখে গেছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
