রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ্ আলী মাজারের আশপাশের এলাকা যেন আজ মাদক কারবারীদের অভয়ারণ্য। পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পরও দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে চলছে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের রমরমা বাণিজ্য। পথচারীদেরকে ডেকে ডেকে বিক্রি হচ্ছে মাদক, যেন কোনো মাছের বাজার! এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইট-বালি-পাথরের আড়ালে চলছে মাদক ডেলিভারি মাজার এলাকা ঘিরেই মাদকের চক্র শাহ আলী থানাধীন গুদারাঘাট, বিশিল, মাজারের আশপাশ ও মিরপুর-আশুলিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় সক্রিয় একাধিক সংঘবদ্ধ মাদকচক্র। তথ্য অনুযায়ী, গুদারাঘাট এইচ ব্লকের ৪ ও ৫ নম্বর রোডে বড় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে মনির ওরফে পিচ্চি মনির, তার শ্যালক আজগর আলী, সালিকা তানিয়া এবং ছেলে আকাশ। নেপথ্যে রয়েছে গডফাদার মোকসেদ ওরফে মুখ্যা। মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাবু ও হনফা, রোড ১৫-তে কাকড়া জাকির দম্পতি, ৬ নম্বর রোডে আশিক, দাদন, আলম ও বাবুর্চি মনির, প্রাইমারি স্কুলের সামনে রিপন, বিশিলে হিরোইন বিক্রি করছে সোর্স জসিম ও কথিত সোর্স মন্টু। কাউন্টার রাসেল এর সাম্রাজ্য নিউ সি ব্লকের কুখ্যাত মাদক সম্রাট রাসেল ওরফে 'কাউন্টার রাসেল' ২০-২৫ জনের বিশাল সিন্ডিকেট দিয়ে পুরো এলাকায় ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করে। তার ভাই রাজীব, শাহআলী মনির ওরফে ভেজাল মনির, ফর্মা সবুজ, পিচ্চি সুমন, মাহি, পাকনা লিটন, সুজন সকলে এ সিন্ডিকেটের সদস্য।
অভয়াশ্রমে পরিণত মাজার চত্বর
মাজার এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরাই স্বীকার করেছেন, এখানে মধ্যবয়সী নারী ও কিশোরদের মাধ্যমে খোলামেলাভাবে চলে মাদক বিক্রি। হোসেন-ইতি দম্পতির নেতৃত্বে চলছে সিন্ডিকেট। কেউ প্রতিবাদ করলে হয় শারীরিক নির্যাতন, নয়রকম হয়রানি।
নামমাত্র নিরাময় কেন্দ্র, মূলত মাদক হাব!
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহত্তর মিরপুরে ২৫-৩০টি কথিত মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার চেয়ে মাদক বাণিজ্যই মুখ্য। অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আছেন স্বয়ং মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা।
স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মুখে
মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অনেক স্কুল-কলেজ পড়ুয়াও এতে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকায় ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।
পুলিশের অবস্থান
এ বিষয়ে শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন,মাদক ব্যবসা একটি ঘৃণিত অপরাধ। আমাদের থানা এলাকায় কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, ছাড় নেই।
জনগণের প্রত্যাশা
স্থানীয়রা বলছেন, মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান হলেও অল্পদিন পর সব আগের মতোই হয়ে যায়। তাঁরা চান—প্রভাবশালীদের মুখোশ উন্মোচন করে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ হোক। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাদক চক্র নির্মূলে নিতে হবে জিরো টলারেন্স নীতি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
