মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও রেহাই পায়নি আমার স্বামী। ওরা লাশের ওপরও নাচানাচি করেছে।
আহাজারি করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার মিটফোর্ডে নির্মমভাবে নিহত ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম। স্বামী হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী, আর সন্তানদের চোখে শুধু আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব।
বরগুনার সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সন্তান সোহাগের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
গত শুক্রবার (১১ জুলাই) ভোরে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদা না দেওয়ায় পাথর মেরে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী সোহাগকে। মৃত্যুর পর তার মরদেহ ঢাকা থেকে বরগুনায় আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস। পরে তাকে দাফন করা হয় মায়ের কবরের পাশে।নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল একটি সন্ত্রাসী চক্র। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। বুধবার তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে চাপ দেয় চাঁদা দিতে। রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।নিহতের কন্যা সোহানা বলেন, আমার বাবা কাউকে ঠকিয়ে খেতেন না। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছে। আমরা এখন এতিম। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় মামলার এজাহার তৈরি করার সময় পুলিশের পক্ষ থেকে কারসাজি করা হয়েছে। প্রথমে একটি খসড়া কপি দেখিয়ে স্বাক্ষর নিলেও মূল এজাহারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের নাম বাদ দিয়ে নিরীহদের আসামি করা হয়েছে। তারা এই মামলায় প্রকৃত আসামিদের অন্তর্ভুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এলাকাবাসীর ক্ষোভ সোহাগের বোন ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ভাই ১০-১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছিল। প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা করে চাঁদা চাইত অভিযুক্তরা। ভাই রাজি না হওয়ায় তাকে পাথর মেরে হত্যা করে। এটা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এই ঘটনায় বরগুনার সামাজিক সংগঠনগুলো মানববন্ধন করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এতে অংশ নিয়ে বলেন, “এই বর্বরতার বিচার না হলে দেশে সন্ত্রাস আরও বিস্তার লাভ করবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
