সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকা থেকে মাছ ধরতে গিয়ে করিম-শরিফ নামের একটি বনদস্যু বাহিনীর হাতে ১০ জন জেলে অপহৃত হয়েছেন। প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা করে, যা মোট এক লাখ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবনের জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র। তারা জানান, মৎস্য প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শুঁটকি তৈরি ও মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে জেলেরা অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করেন।
অপহৃতদের একজন মোংলার বকুলতলা গ্রামের জেলে অবজাল (৩২) দস্যুদের এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। তিনি জানান, অস্ত্রের মুখে জেলেদের নৌকা ও জিনিসপত্র আটকে রেখে জিম্মি করে অর্থ দাবি করে করিম-শরিফ বাহিনী।
আরও এক জেলে, রামপালের শ্রীফলতলা গ্রামের আলম জানান, তার সঙ্গীরা এখনও দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন, কারণ তারা মুক্তিপণ দিতে পারেননি। অপহৃতদের মধ্যে কয়রা উপজেলার রাসেল (৩৫) নামের এক জেলেও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, “সুন্দরবনে অনুপ্রবেশকারী জেলে ও হরিণ শিকারি চক্রের তৎপরতা রোধে বনবিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, প্রতি বছর মৎস্য প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে জীবিকার তাগিদে বা লোভে নিষিদ্ধ সময়ে বনে প্রবেশ করে, যার ফলে তারা বনদস্যুদের কবলে পড়েন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
