উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষার পর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর উপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু যমুনা রেল সেতু চালু হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ যাত্রীরা। একদিকে সেতু দিয়ে দ্রুত ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও, অপরদিকে সিঙ্গেল লাইন সমস্যায় সেই সুফল ভেস্তে যাচ্ছে। প্রায় ১৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেলসেতুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ আরও সহজ হওয়ার কথা ছিল। দৈর্ঘ্যে ৪.৮ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ১২০ কিমি গতিতে মাত্র ৩ মিনিটেই ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে দিনে গড়ে মাত্র ৩২টি ট্রেন পার হচ্ছে সেতু দিয়ে, যেখানে সক্ষমতা রয়েছে ৮৮টি ট্রেন চলাচলের।রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেললাইন এখনো সিঙ্গেল লেন, ফলে এক ট্রেন আসলে আরেকটি যেতে পারে না। ডাবল লাইন করার জন্য প্রকল্প অনুমোদন হলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি ও জটিলতা দেখা দিয়েছে। নীলফামারী থেকে আসা যাত্রী আব্দুর রব বলেন, সেতু দিয়ে সময় বাঁচার কথা থাকলেও বাস্তবে খুব একটা পার্থক্য নেই। ২০-৩০ মিনিট সময় কম লাগে, কিন্তু ট্রেন স্টপেজে দাঁড়িয়ে আবার সময় নষ্ট হয়। ইব্রাহিমাবাদ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা দুলাল মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ট্রেন আছে, সেতুও আছে, কিন্তু সুবিধা আগের মতোই। আগে যেমন ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, এখনো তাই করতে হয়।ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সোহেল খান বলেন সেতুর দুই পাশেই ডাবল লাইন না থাকায় এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ডাবল লাইন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও কোনো কারণে তা আটকে আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো, যাতে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। উত্তরাঞ্চলের মানুষ দ্রুত, নিরাপদ ও সময়নিষ্ঠ রেল সেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু অবকাঠামো সংকট, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং রেল পরিচালনায় সমন্বয়হীনতার কারণে যমুনা রেল সেতুর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কোটি টাকার এ অবকাঠামো প্রকল্প সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থই থেকে যাবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
