চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় সংঘটিত দুটি পৃথক হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আকবর আলী শেখ। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন তিনি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আলমডাঙ্গা উপজেলার বামানগর গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে স্বাধীন আলী, চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার মরহুম বিপ্লব হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান আশিক এবং জীবননগরের গঙ্গাদাসপুর গ্রামের ইব্রাহিম মণ্ডলের ছেলে জমির উদ্দিন। ২০২২ সালের ৯ মে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলমডাঙ্গার জেহালা গ্রামের ঠিকাদার কামাল হোসেন (৬৩) রাতের বেলা কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় কামালের মরদেহ তার স্ত্রী বাড়ির বাইরে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আলমডাঙ্গা থানায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।এ মামলায় স্বাধীন আলী ও আশিকুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলায় অপর ৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
২০২২ সালের ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগরের গঙ্গাদাসপুর গ্রামের কৃষক বাবলু রহমানকে পূর্বশত্রুতার জেরে কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়।
আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী চায়না খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক সৈকত পাড়ে একমাত্র আসামি হিসেবে জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি জমির উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। দুটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পিপি মারুফ সরোয়ার বাবু ও বিবাদীপক্ষে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমান ও অ্যাডভোকেট মর্তুজান মামলাটি পরিচালনা করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
