সাজা না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ ৩০ বছর কারাগারে বন্দী থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন হবিগঞ্জের এক মানসিক রোগী কানু মিয়া। এ ঘটনা গোটা দেশজুড়ে বিস্ময়, ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই দীর্ঘ সময় কোথায় ছিলো আইন, মানবতা ও ন্যায়বিচার ১৯৯৫ সালে নিজের মাকে কোদাল দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন কানু মিয়া। মামলার বাদী ছিলেন তাঁর বড় ভাই, যিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, কানু মানসিক রোগে ভুগছিলেন এবং ঘুমের ঘোরে ঘটনাটি ঘটান। ১৯৯৬ সালে পুলিশ চার্জশিট দিলেও তাতে তাঁর মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও বিচার শুরু হয়নি। ২০০৩ সালে আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ আজও পালন হয়নি। বরং তাঁকে বছরের পর বছর ধরে সিলেট ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়। মাঝে মাঝে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও কখনোই কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ মতামত বা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি। ২০১৯ সালে আদালত ফের তাঁর মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন। তখনও জানানো হয়, তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালে হবিগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের নজরে বিষয়টি আসার পর পুনরায় বিষয়টি আদালতের সামনে তোলা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে আদালত মুক্তির নির্দেশ দেন এবং গত মঙ্গলবার কানু মিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পান।তাঁর ভাই নাসু মিয়া জানান, আমরা জানতামই না ওর জামিন হতে পারে। সিলেট গিয়ে খোঁজ নেওয়ার মতো সামর্থ্যও আমাদের ছিল না। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, এটি দেশের বিচার ও কারা ব্যবস্থার একটি ভয়াবহ উদাহরণ। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে একজন মানসিক রোগীকে জেলে আটকে রাখার দায় থেকে কেউ রেহাই পেতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রশাসনের উদাসীনতাই এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো—গরিবের জন্য বিচার যতোটা কঠিন, রাষ্ট্রীয় অবহেলা ততোটাই নির্মম।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
