২০২৪ সালের এই দিনে ঢাকার সাভারে কারফিউ চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মুরগির দোকানি কোরবান শেখ। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। বছর ঘুরে এলে রাজবাড়ীর কালুখালীর পূর্ব রতনদিয়ার এই পরিবারটির কান্না যেন আবারও নতুন করে ছুটে আসে ঘটনার পটভূমি:
২০২৪ সালের ২০ জুলাই, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সাভার বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় কারফিউ চলছিল। ওই দিন দুপুরে মাছবাজার এলাকায় গোলাগুলির মধ্যে পড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী কোরবান শেখ (৪৯) গুলিবিদ্ধ হন। বুকে ও পায়ে দুটি বুলেট এবং অসংখ্য ছররা গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হন তিনি। পরবর্তীতে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ব্যক্তিগত জীবন:
কোরবান শেখ ছিলেন কালুখালী উপজেলার পূর্ব রতনদিয়া গ্রামের মৃত মেহের শেখের ছেলে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর ছোট্ট সংসার। ছেলেমেয়ে দুজনই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কোরবান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।ছেলে রমজান শেখ বলেন,
“আমার আব্বু হাঁটতে পারতেন না। ওই দিন সকালে দোকান খোলেন, পরে সংঘর্ষের ভয়ে বরফকলের ভিতরে আশ্রয় নেন। দুর্বৃত্তরা দরজা ভেঙে ঢুকে গুলি করে। বুকে ও পায়ে গুলি লাগে। কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার আব্বু আমাদের ছেড়ে চলে যান। মেয়ে মিতু আক্তার বলেন,
“আমার বাবা চাইতেন ভাই বিসিএস ক্যাডার হবে, আমি হবো ব্যাংকার। অসুস্থ শরীরেও দিন-রাত খেটে আমাদের পড়ালেখা চালাতেন। আমার বাবার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তিনি প্রতিবন্ধী ছিলেন, কারও মায়া লাগার কথা। অথচ তাকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমরা বিচার চাই। স্ত্রী শিল্পী খাতুন বলেন,
“আমার স্বামী রাজনীতি করতেন না, প্রতিবন্ধী ছিলেন। দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন। কাকুতি-মিনতি করলেও গুলি করা হয়। আমার স্বামীর স্বপ্ন আজ শুধু স্মৃতি। এখন ছেলেমেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচবো, জানি না। বিচার ও সহযোগিতা দাবি:
এক বছর পার হলেও কোরবান শেখ হত্যার কোনো বিচার হয়নি। পরিবারটির দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক এবং সন্তানদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা চালিয়ে যেতে রাষ্ট্র দায়িত্ব নিক।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
