গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার উপর ছুরিকাঘাত করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকারী এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার পকেটে থাকা পরিচয়পত্র দেখে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম সাজু মিয়া। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটির কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থী। তার পিতা দুলাল মিয়া ও মাতা রিক্তা বেগম।
সাঘাটা থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই যুবক থানার ভেতরে প্রবেশ করে ডিউটিরত এএসআই মহসিন-এর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছুরি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
হঠাৎ হামলার ঘটনায় থানা চত্বরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ধরার চেষ্টা করে। তখন তিনি দৌড়ে পাশের সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ঝাঁপ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
পুলিশ পুরো রাত পুকুরটি পাহারা দেয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে তল্লাশি চালিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের ধারণা, পালানোর সময় ওই যুবক পানিতে ঝাঁপ দিলেও সাঁতার জানতেন না এবং পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আহত এএসআই মহসিনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে—নিহত যুবক কেন থানায় প্রবেশ করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তার সঙ্গে কেউ জড়িত কি না।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে সন্দেহজনক ও রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং নিহত যুবকের পটভূমি ও আচরণের বিস্তারিত জানতে অনুসন্ধান চলছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
