গাইবান্ধার সাঘাটায় কলেজ ছাত্র ও ছাত্রশিবির নেতা সিজু মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সাঘাটা থানার সামনের পুকুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোছা. রুনা লায়লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার।
ঘটনাপ্রবাহ:
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিজু মিয়া সাঘাটা থানায় ঢুকে এএসআই মহসিন আলীকে ছুরিকাঘাত করেন এবং এরপর থানার সামনের পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা সাঘাটা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে শনিবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে পুকুরপাড়ে সিজুকে নির্দয়ভাবে মারধর করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবাদ-বিক্ষোভ:
ঘটনার পরদিনই উত্তেজিত এলাকাবাসী গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। পরদিন রোববার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয়রা।
নিহত সিজু মিয়া (২৫) গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের বাগুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং গিদারি ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
