নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ঠাকুরগাঁওয়ের বসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠছে মুরগির খামার। খামারের বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। খামারকেন্দ্রিক বিরোধে ঘটেছে মারামারি, এমনকি মামলা-হাজত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গ্রামবাসীর আশঙ্কা—এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন জাতের বড়, ছোট ও ক্ষুদ্র প্রায় ৪৫০টি মুরগির খামার রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২-৩টির পরিবেশ ছাড়পত্র আছে, বাকিগুলোর একটিরও নেই।
সদর উপজেলার তেওয়ারীগাঁও শাহপাড়া গ্রামে “এইচ এন এগ্রো” নামে একটি খামার বসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠে। খামারের বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলা হওয়ায় চারপাশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন গ্রামবাসী। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সম্প্রতি বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও গণপিটিশন করেছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী খয়রুল ইসলাম শাহ বলেন, দিন দিন দুর্গন্ধ বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে।খাদিজা বেগম জানান, “রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না, বাসায় মাছি ভরে যায়। বাচ্চা-বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
আরেকজন ভুক্তভোগী কাসেম আলী অভিযোগ করেন, মসজিদে নামাজ পড়তেও কষ্ট হয়। দুর্গন্ধ সেখানে পর্যন্ত পৌঁছায়।
গ্রামবাসী জানান, খামারকেন্দ্রিক বিরোধে মিথ্যা মামলায় নিরপরাধ লোকজনকে জেলও খাটতে হয়েছে।
খামারের মালিক হুমায়ুন কবির শাহ দাবি করেন, পরিবেশের ছাড়পত্র প্রক্রিয়াধীন। দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ ঠিক নয়। বরং গ্রামের কিছু লোক খামারে হামলা করে আমার ভাইকে আহত করেছে। পরে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান বলেন, খামার স্থাপন করলেই হবে না, পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান জানান, ছাড়পত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠান করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে জরিমানা করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
