ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

নাগেশ্বরীতে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘টাকার বিনিময়ে আসামি ছাড়ার’ অভিযোগ

সারাদেশ | রাশিদুল ইসলাম রাশেদ। কুড়িগ্রাম।

(৪ ঘন্টা আগে) ৯ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ৫:২৬ পূর্বাহ্ন

banglahour


এফআইআরভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানার চত্বরে আনা হলো। কিন্তু আদালতে পাঠানোর বদলে অজ্ঞাত কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিকে গ্রেপ্তার ও মামলা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন থানার এসআই মোফাখখারুল। পরে প্রধান আসামি আল আমিন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পরও ছেড়ে দেওয়া হয়।


বাদীর আরও অভিযোগ, নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুলাহিল জামানের নির্দেশেই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ওসি আব্দুলাহিল জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন—এফআইআরভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানার চত্বর থেকে ছেড়ে দেওয়ার বৈধতা কী? আর যদি আদালতে পাঠানোর মতো অভিযোগ থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন?
হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই নাগেশ্বরীর চর বেরুবাড়ী গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আহমাদুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহমাদুল হক ও তাঁর চাচাতো ভাই মো. মোজাহিদ হক আহত হন।
এ ঘটনায় আহমাদুল হক বাদী হয়ে গত ৪ আগস্ট কুড়িগ্রামের আদালতে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর আদালত তিন কার্যদিবসের মধ্যে তা এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নাগেশ্বরী থানাকে নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ আগস্ট মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলার নম্বর ১৫, জিআর নম্বর ২০৯/২৬ (নাগেশ্বরী)। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীর দাবি, মামলা রেকর্ডের দিন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে এসআই মোফাখখারুল তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন। পরে আল আমিন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হলেও তাকে আদালতে না পাঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাদী আরও দাবি করেন, এসআই মোফাখখারুলের টাকা গ্রহণের বিষয়ে তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে এবং সেসব প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত আছে।

‘আসামিকে ছেড়ে দিয়ে উল্টো হয়রানি’
মামলার বাদী আহমাদুল হক বলেন, “পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু কোর্টে চালান না দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, এখন উল্টো সাজানো মামলায় পুলিশ দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসামি আল আমিন থানা থেকে বের হয়ে এসে আমাকে ও আমার পরিবারকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।”

স্থানীয় সুজাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আতাউরসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আসামি ছাড়া পাওয়ার পর বাদী ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাঁদের অভিযোগ, টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এফআইআরভুক্ত আসামি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা সত্য হলে এটি পুলিশের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। একই সঙ্গে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ওসি স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান চলছে।”
এফআইআরভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি থানায় আসেন, সরাসরি কথা বলি। মোবাইলে কোনো কথা বলতে পারব না।”

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (নাগেশ্বরী সার্কেল) মো. গোলাম মোর্শেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—আদালতের নির্দেশে এফআইআর হওয়ার পর গ্রেপ্তার করা একজন আসামি কীভাবে থানার চত্বর থেকে ছেড়ে গেলেন? কার নির্দেশে তাকে ছাড়া হলো এবং এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না—তা তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।


 

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯