কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র সাত মাসেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোগী।
মাত্র ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র হলেও অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে দীর্ঘদিন। ২০২৩ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ৩ লাখ ৩৯ হাজার রোগী। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৩ লাখে। এবারও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অবকাঠামোগত সংকটে চিকিৎসক-রোগী সবাই ভোগান্তিতে
হাসপাতালটিতে সরকারি ও অবৈতনিক মিলে মোট ৪৯ জন চিকিৎসকের জন্য রয়েছে মাত্র ১৯টি কক্ষ। অনেক সময় একই রুমে তিনজন চিকিৎসক রোগী দেখেন। টিনশেড ভবনের কক্ষে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না।
রোগীরা অভিযোগ করেছেন—অপেক্ষার জায়গা, ছাউনির নিচে ফ্যান, এমনকি স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষগুলোতেও পর্যাপ্ত আলো-হাওয়া নেই। এতে বৃদ্ধ, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
চিকিৎসক-রোগীর সংখ্যা মেলে না
প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে আসছেন দেড় থেকে দুই হাজার রোগী। ১৭ আগস্ট একদিনেই টিকিট কেটেছেন ১৯ হাজারের বেশি রোগী। অথচ বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।
চর্ম বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ৩ জন।
শিশু বিভাগে প্রতিদিন আড়াইশ রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ২ জন।
মেডিসিন বিভাগেও পদায়নকৃত চিকিৎসক সংখ্যায় অপ্রতুল।
উন্নয়নের দাবি
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির জানান, হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পেলে সংকট কাটবে।
প্রবীণ চিকিৎসক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল আনোয়ার বলেন, অপর্যাপ্ত কক্ষ আর চিকিৎসক দিয়ে এভাবে চাপ সামলানো সম্ভব নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
দীর্ঘ ইতিহাস
১৮৪৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কুমিল্লা চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৭১ সালে নাম হয় কুমিল্লা দাতব্য চিকিৎসালয়। মুক্তিযুদ্ধের পর এটি ৫০ শয্যার কুমিল্লা সদর হাসপাতালে উন্নীত হয়। বর্তমানে জেনারেল হাসপাতাল নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর জেলার সবচেয়ে ব্যস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
