মৎস্য বন্দর মহিপুরে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা বর্ষায় কর্দমাক্ত হয়ে ধানক্ষেতের মতো রূপ নিয়েছে। হাঁটু সমান কাদায় ডুবে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছে তিনটি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ।
রাস্তা না থাকায় মহিপুর বাজার থেকে ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী হয়ে ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা–অনন্তপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা এখনো পাকাকরণ হয়নি।
শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারে দুর্ভোগ
রাস্তার কর্দমাক্ত অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে, বই-খাতা ও ইউনিফর্ম নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে যায়।
অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নিতেও ভোগান্তির শেষ নেই। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে না পেরে স্থানীয় ছোট হাটে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের আক্ষেপ
তারিকাটা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আজহার খান বলেন আমার বাপ-দাদারাও সারাজীবন এ কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগে ছিলেন। এখনো আমরা হাঁটু কাদা মাড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছি। কবে যে এই বেড়িবাঁধে ইটের রাস্তা হবে, জানি না।
তারিকাটা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা জানান,কাদা-পানিতে হেঁটে স্কুলে যেতে গিয়ে পায়ে ক্ষত হয়েছে। ভেজা জামাকাপড়ে ক্লাস করতে হয়।
মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ফজলু গাজী বলেনতিন ইউনিয়নের মানুষের জন্য এ রাস্তা পাকাকরণ জরুরি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) কলাপাড়ার প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান জানান রাস্তা পাকাকরণের প্রস্তাব তালিকাভুক্ত হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ করা হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
