ময়মনসিংহে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও মানববন্ধন করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। শনিবার সকালে সিকে ঘোষ রোড থেকে র্যালি বের হয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
মানববন্ধনে গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, বিগত সরকার বিরোধী মত দমনে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গুম করেছিল। তারা অভিযোগ করেন, হাসিনা সরকারের পতনের পরও মিথ্যা মামলার কারণে আজও তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না।
ফুলবাড়ীয়ার ইমাম মেহেদী হাসান ডলার জানান, র্যাব তাকে অপহরণের পর ভারতের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করে। ৯ মাস কারাভোগ শেষে দেশে ফিরে এসেও মিথ্যা মামলার কারণে তিনি নিস্তেজ জীবন কাটাচ্ছেন। মুক্তাগাছার কৃষক রাশেদ বলেন, গুমের পর তাকে জঙ্গি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল; রাজি না হওয়ায় একের পর এক মামলা দেওয়া হয়। পোশাক শ্রমিক গোলাম মোস্তফা বলেন, দাড়ি রাখার কারণে তাকে ৯২ দিন গোপন বন্দিশালায় রেখে নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগীরা বর্তমান সরকারের প্রতি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল হক বলেন, গুম ও মিথ্যা মামলা একে অপরের পরিপূরক। সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সভাপতি এম আইয়ুব আলী বলেন, গত ১৬ বছরে বেআইনি আটক কেন্দ্র ও গোপন বন্দিশালায় অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা অ্যাড. এটিএম মাহবুব উল আলম, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. হান্নান খান, জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্সের মো. মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
অধিকার-এর বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘে ২০০৬ সালে গৃহীত ‘গুম হওয়া থেকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সনদ’ বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট অনুমোদন করেছে। সংস্থাটির মতে, গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, অথচ অতীত সরকার এটিকে রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
