বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ও চরগোপালপুর ইউনিয়ন মাসকাটা ও কালবদর নদীর ভাঙনে বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। নদীর তীরবর্তী মানুষ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত স্থানে সরকারি ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কাজ চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিকল্পনাহীন এই খনন কার্যক্রম ভাঙনকে আরও তীব্র করবে। তারা অবিলম্বে খনন বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদি ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দিন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকায় সরকারিভাবে নদী খনন যৌক্তিক নয়। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো, খনন করা হচ্ছে ভাঙনকবলিত ও অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। যদি কাজ চলতে থাকে তাহলে চরগোপালপুর ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের মানুষজন ভিটেমাটি হারাবে।
আরেক বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ বছর ধরে অন্তত ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, ঘটনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলাল উদ্দিন মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
