খুলনা জেলা পরিষদকে ঘিরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুর্নীতির সিন্ডিকেট। ২০১১ সালে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট ভুয়া প্রকল্প, ইজারা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছিল। একপর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিবর্তন করে এস এম মাহাবুবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি কমে এলেও সম্প্রতি সিন্ডিকেটটি ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম।
প্রশাসক নিয়োগের পর জেলা পরিষদের প্রভাবশালী প্রধান সহকারী মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল টেন্ডার, ইজারা ও ভুয়া প্রকল্প। এমনকি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খাড়া করে ব্যাংক হিসাব খোলা ছিল নিয়মিত প্রক্রিয়া।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিন্ডিকেটের দুই সদস্য—গাড়িচালক মো. সহিদুল্লাহ ও পিয়ন সেলিম শেখ—১২টি ভুয়া প্রকল্প পাশ করান। প্রতিটির বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩৬ লাখ টাকা। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান এসব প্রকল্পের সত্যতা খুঁজে না পেয়ে বরাদ্দ আটকে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুইজন তাকে অফিসে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় জিডি হলেও এখনো তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এস এম মাহাবুবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পরিষদের আর্থিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসে। তাঁর সময় সাড়ে ৯ কোটি টাকার এফডিআরের পাশাপাশি আরও প্রায় ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব জমা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন মামলা ঝুলে থাকা দৌলতপুর খেয়াঘাট থেকে প্রতিবছর ১৬ লাখ টাকার বদলে নিলামে গিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিষদের চেহারাও বদলে গেছে। সাধারণ মানুষও প্রথমবার সরাসরি পরিষদের সুফল পেতে শুরু করে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, আবারও দুর্নীতিগ্রস্ত তিন কর্মচারীকে চাকরিতে ফেরাতে প্রায় ২ কোটি টাকার “মিশন” নেওয়া হয়েছে। কিছু গণমাধ্যমকে ভিন্ন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী একটি মহলের সহায়তায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানকে বদলি বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে।
সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি জেলা পরিষদে মাত্র তিনজন কর্মচারীকে ঘিরে কোটি টাকার সিন্ডিকেট চলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু স্থানীয় প্রশাসন নয়, মন্ত্রণালয়েরও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
খুলনার ব্যবসায়ী সমাজের এক নেতা বলেন, “যদি আবার পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়, তবে উন্নয়ন থেমে যাবে। জনগণের টাকার প্রকল্প যাবে ব্যক্তিগত পকেটে।
প্রশ্ন হচ্ছে—দুর্নীতিগ্রস্ত তিন কর্মচারী কি আবার চাকরিতে ফিরবেন, নাকি জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে খুলনার জেলা পরিষদ কি আবারও ভুয়া প্রকল্প ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের হাতে যাবে
২০১৮ সালের পর থেকে শুরু হওয়া ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়নের ধারা আবারও হুমকির মুখে। একদিকে সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান, অন্যদিকে কোটি টাকার সিন্ডিকেটের চাপ। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রণালয় দুর্নীতির পাশে দাঁড়াবে, নাকি জনগণের সুফলের পক্ষে সৎ প্রশাসনকে সমর্থন দেবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
