চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্তবর্তী দর্শনা হল্ট রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী সুন্দরবন আপ এক্সপ্রেস ট্রেনের বহু প্রত্যাশিত স্টপেজ অবশেষে মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ১২টা ১২ মিনিটে প্রথমবারের মতো ট্রেনটি থামায় উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শনা পৌরবাসী।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে ছাত্র-যুবক-বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ জড়ো হন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। হল্ট স্টেশনকে সাজানো হয় আলোকসজ্জায়, আয়োজন করা হয় খাবারেরও। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতেই আন্দোলনকারী ছাত্রজনতা শ্লোগান দেন, যাত্রীদের অভিনন্দন জানান এবং ট্রেনের চালক ও স্টাফদের ফুল ও খাবার দিয়ে বরণ করে নেন।
আন্দোলনের ইতিহাস
এই ন্যায্য স্টপেজ পেতে দর্শনাবাসীকে লড়তে হয়েছে দীর্ঘদিন। সাবেক এমপি আলী আজগার টগর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকলেও তার উদ্যোগের অভাবে দর্শনাবাসী বারবার বঞ্চিত হয়। পরবর্তীতে স্মারকলিপি, চিঠি, অফিসে ধর্ণা কোনো কিছুর ফল না আসায় ছাত্রজনতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাস্তায় নামে। ধীরে ধীরে সর্বস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একত্র হলে আন্দোলন নতুন গতি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দর্শনায় স্টপেজের ঘোষণা দেয়।
বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভা
স্টপেজ বাস্তবায়নের প্রথম রাতে আয়োজন করা হয় বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভার। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক তানভির রহমান অনিক।
বক্তব্য রাখেন—
তৌহিদ হোসেন (সাবেক ছাত্র আন্দোলন নেতা)
পলাশ আহাম্মেদ (ছাত্রদল)
লোকমান হোসেন (ইসলামী ছাত্রশিবির)
আবিদ হাসান রিফাত (ছাত্র আন্দোলন নেতা)
সরোয়ার হোসেন (যুবদল)
মোল্লা শফি উদ্দিন (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, দর্শনা ডি এস মাদ্রাসা)
জালাল উদ্দীন লিটন (যুবদল সভাপতি)
জাহিদুল ইসলাম (ব্যবসায়ী নেতা)
ইকবাল হোসেন (বিএনপি সমন্বয়ক)
মাওলানা আব্দুল খালেক (জামায়াত)
তানজিল হোসেন (জামায়াত যুব বিভাগ)
এনামুল হক শাহ মুকুল (বিএনপি সমন্বয়ক)
মশিউর রহমান (বিএনপি সমন্বয়ক)
মাওলানা আজিজুর রহমান (জামায়াত জেলা নায়েবে আমীর)
আনোয়ারুল ইসলাম বাবু (জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা)
হাবিবুর রহমান বুলেট (পৌর বিএনপি প্রধান সমন্বয়ক)
বক্তারা দর্শনার জনগণকে ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
প্রথম দিনের টিকিট ব্যবস্থা
প্রথম দিনে দর্শনার জন্য ১৫টি টিকিট বরাদ্দ থাকলেও অর্ধশতাধিক যাত্রী টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ বাড়ালে যাত্রীরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন।
উপস্থিত রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী
প্রথম স্টপেজের রাতে উপস্থিত ছিলেন লোকো মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী লোকো মাস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক এবং পরিচালক আতিকুর রহমান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
