বাবা আজ তোমার জন্যই আমি পড়াশোনা করছি.. কিন্তু তুমি আর দেখতে পারলে না আমার শেষ পরীক্ষা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বলছিলেন মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মনোয়ারা খাতুন (মীম) - যাঁর পরীক্ষার এডমিট কার্ড আনতে গিয়েই প্রাণ হারালেন তার প্রিয় বাবা, টেইলার মাস্টার মোঃ মকবুল হোসেন (৬৫)।
ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টারের বাসিন্দা মকবুল হোসেন ছিলেন পেশায় এক জন সৎ, পরিশ্রমী টেইলার মাস্টার। কলেজ রোডের মিম টেইলাইস- এটাই ছিল তার জীবনের রোজগারের ঠিকানা। সারাজীবনের ঘাম-ঝরা আয় দিয়ে একমাত্র ছেলে জাকির হোসেন (৩৪) ও মেয়ে মীমকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।
ছেলে জাকির হোসেন বর্তমানে বেসরকারি কোম্পানি নেসলে-তে চাকরি করেন। তিনি বলেন, বাবার সব কথা ঘুরে ফিরে আসত বোনকে নিয়ে। বলতেন- মিমকে মানুষ করবি, ও যেন বড় অফিসার হয়। সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই বাবা আজ চিরতরে চলে গেলেন।
আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে মকবুল হোসেন বের হয়েছিলেন মেয়ের পরীক্ষার এডমিট কার্ড আনতে মুক্তাগাছার উদ্দেশ্যে, উঠেন সিএনজিতে কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- দুপুর ১ টার দিকে মুক্তাগাছা সত্রশিয়া কাটাই বটগাছতল নামক স্থানে আরেকটি গাড়িকে সাইট দিতে গিয়ে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় । ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এই শ্রমজীবী বাবা।
একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মুক্তাগাছা মুকুল নিকেতন কলোনির সম্পা দেবনাথ (৩৫)। তিনি চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই মামলা না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
মকবুল হোসেনের মৃত্যু যেন থমকে দিয়েছে এক পরিবারের স্বপ্নযাত্রা। চোখের জল, নিস্তব্ধ ঘর আর অসমাপ্ত কথার ভেতর এখন শুধু একটাই প্রার্থনা -যে বাবার বুক ভরা স্বপ্ন ছিল মেয়েকে বড় অফিসার হিসেবে দেখা, সেই মেয়ে যেন বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
আজ ময়মনসিংহের আকাশও যেন ভারী হয়ে আছে এই এক পিতা ও এক মেয়ের অসমাপ্ত গল্পে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
