ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তির জন্য ডিএমটিসিএল এমডি পদে থাকা আইনসম্মত নয়: আইনি বিশ্লেষণ

সারাদেশ | নিজেস্ব প্রতিনিধি

(৮ মাস আগে) ১৩ নভেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ১:৫৯ অপরাহ্ন

banglahour

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী (বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া) কোনো ব্যক্তির নিয়োগ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অনুমোদিত নয়, এমনটাই স্পষ্ট করেছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

ডিএমটিসিএল ২০১৩ সালের ৩ জুন কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪ অনুযায়ী নিবন্ধিত হলেও এটি একটি শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান—যা কার্যত সরকারের অধীনেই পরিচালিত হয়।

 আইন অনুযায়ী এমডি “পাবলিক সার্ভেন্ট”

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২১(৭) ও ২১(১২) অনুযায়ী—সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বা সরকারের মালিকানাধীন কোনো কোম্পানির কর্মকর্তা”
“সরকারি বেতন বা ফি গ্রহণ করে জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনকারী যে কেউ
—দু’ক্ষেত্রেই ‘public servant’ বা সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য।

অতএব, ডিএমটিসিএলের এমডি যেহেতু সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সরকারি অর্থে পরিচালিত জনপরিষেবা (মেট্রোরেল) পরিচালনা করেন, তাই তিনি আইনত একজন সরকারি কর্মচারী বা public servant।

 দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংজ্ঞাতেও সরকারি কর্মচারী

দুদক আইন, ২০০৪; দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ও দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৪৭—এই তিন আইনের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘public servant’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই সংজ্ঞার আওতায় পড়ে—
বিমান, পেট্রোবাংলা, বিটিসিএল, ওয়াসা, ব্র, বিআরটিসি, ডিপিডিসি, ব্রটিএ এবং ডিএমটিসিএল-এর মতো প্রতিষ্ঠান।

অতএব, ডিএমটিসিএলের এমডি দুদকের তদন্তাধীন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত। সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ (Public Service Act 2018)–এর ধারা ৪০

এই আইনের ধারা ৪০(১) এ বলা হয়েছে:কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারে চাকরিকালে অন্য কোনো দেশের নাগরিক থাকতে পারবেন না।

আইনের এই ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি নিয়মাবলীর আওতাভুক্ত কর্মকর্তা যদি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী হন, তবে তাঁর নিয়োগ বেআইনি বলে গণ্য হবে।

ডিএমটিসিএলের এমডি পদে নিয়োগপত্রে উল্লেখ আছে—Your contractual appointment will be governed by the Government as well as Service Rules and provisions of DMTCL.

অর্থাৎ, এমডি পদটি সরাসরি সরকারি নিয়ম ও সেবা বিধির আওতাভুক্ত, ফলে ধারা ৪০(১) কার্যকর হয়।

???? আইন লঙ্ঘনের ফলাফল

১. চাকরি বাতিল বা পদচ্যুতি – Public Service Act 2018 অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখলে পদে থাকা অবৈধ।
২. দুদকের তদন্তের মুখোমুখি হওয়া – দুদক ইতিমধ্যে দ্বৈত নাগরিক সরকারি কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
৩. হাইকোর্টে রিট দায়েরযোগ্য অপরাধ – সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নিয়োগকে বেআইনি ঘোষণা চাওয়া যেতে পারে।

 

আইন, বিধি এবং আদালতের রায়সমূহের আলোকে স্পষ্ট যে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী (বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া) কোনো ব্যক্তি ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আইনত থাকতে পারেন না।

কারণ তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য, এবং Public Service Act, 2018–এর ধারা ৪০(১) অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব রাখা অবস্থায় এই পদে থাকা সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯