মামলা সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের সময় উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফা সাদ্দাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হাফিজুর রহমান (২৮) ও নাজমুল হুদা (৩০) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের কাছে অতিরিক্ত কৃষি উপকরণ দাবি করেন। তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে উপকরণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে চাঁদা দাবি করেন।
অস্বীকৃতি বজায় রাখায় অভিযুক্তরা তাকে মারধর শুরু করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে সহকর্মীরা আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তার বক্তব্য
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,
“কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত উপকরণ নিয়মের বাইরে দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি অস্বীকৃতি জানানোয় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, আমাকে গালিগালাজ ও মারপিট করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত আবু হানিফা সাদ্দামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক লুৎফুল হায়দার লিপটন বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। তদন্ত করে দেখা হবে।”
জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব রুকুনুজ্জামান খন্দকার রুকু বলেন,
“বিষয়টি আগে জানতাম না। তদন্ত হবে, সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কৃষি অফিসের প্রতিক্রিয়া
চিলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় বলেন,
“আব্দুর রাজ্জাককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমাদের অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। মামলা হয়েছে—আমরা চাই দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হোক।”
পুলিশের অবস্থান
ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন,
“অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
