রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে সাবেক স্বামীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন নববিবাহিত যুবক হৃদয় হোসেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রেম করে বিয়ে, এরপর থেকেই হুমকি
চার মাস আগে হৃদয় হোসেন খাগড়াছড়ির এক সন্তানের জননীকে প্রেম করে বিয়ে করেন। ওই নারীর সাবেক স্বামী রুবেল বিয়ের পর থেকেই হৃদয় ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার আগে রুবেল গৃহবধূকে পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়িতে নিয়ে গেলেও প্রায় ১০–১২ দিনের মধ্যে তিনি আবার হৃদয়ের কাছে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই রুবেল স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে হৃদয়কে ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকেন বলে দাবি পরিবারের।
রাতে মুখোশধারীদের হামলা
শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মুখোশ পরা ৩–৫ জন সন্ত্রাসী হৃদয়ের বাড়িতে হামলা চালায়।
তারা প্রথমে বাড়ির সবগুলো ঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে হৃদয়কে ডাকতে থাকে। হৃদয় দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ লিটার পেট্রল, একটি ধারালো ছুরিসহ আগুন লাগানোর সরঞ্জাম ফেলে যায় তারা।
হৃদয়ের শরীরে ৫০টির বেশি সেলাই দিতে হয়েছে জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, ভাগ্যক্রমে সবাই প্রাণে রক্ষা পেলেও তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের অভিযোগ
আহত হৃদয়ের বাবা অনিল মন্ডল বলেন—
“আমার ছেলের স্ত্রীকে আগের স্বামী রুবেল নানা ভাবে হয়রানি করছে। পুলিশের সহায়তায় মেয়েকে নিয়ে গেলেও প্রেমের টানে সে আবার ফিরে আসে। আমরা তাকে বউমা হিসেবে গ্রহণ করেছি। এরপর থেকেই রুবেল আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে শুক্রবার রাতে আমাদের সবাইকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন,
“সব ঘরে তালা লাগানো ছিল, শুধু ছেলে বের হতে পারছিল বলে তাকে কুপিয়েছে। একটু সুযোগ পেলে আমাদের পুরো পরিবারকে জ্বালিয়ে দিত।”
পুলিশের বক্তব্য
পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন—
“এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
