দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আমতলী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে মনোনয়নকৃত গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ মাদরাসা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আমতলী বাজারে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এসময় মানববন্ধন কারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “আমরা মিজানকে চাই না”, “মিজান তুমি কে? তোমাকে চিনিনা,—সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী বার্তার স্লোগানে মুখরিত হয় মানববন্ধন এলাকা।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, মাদরাসাটির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে স্থানীয়দের পরামর্শ বা সম্মতি ছিল না।
তারা অভিযোগ করেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়ন দেয়া
গভর্নিংবডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য এ এলাকার মানুষ না। তাই স্থানীয়দের কাছে তারা অগ্রহণযোগ্য।
বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সভাপতির দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা অযাচিত প্রভাব ও বাহিরের ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বশীলদের কাছে বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান দাবি করেন। একই সঙ্গে মাদরাসার ঐতিহ্য রক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্য রাখেন, আমতলী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবু বকর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ,বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মীর মোঃ নজরুল ইসলাম ,খোন্তাকাটা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন, নলবুনিয়া আলিম মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল ওহাব , খোন্তাকাটা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মহিউদ্দিন শাজাহান, এ ছাড়াও আমতলী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য মাওলানা আবুল হাসান মুন্সি,মতিউর রহমান শরীফ ও নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা জাকারিয়া হোসাইন।
দাবিগুলো পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও বক্তারা মানব বন্ধনে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২ ডিসেম্বর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মোঃ আইউব হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আমতলী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে খুলনার খালিশপুরের শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মিজান এবং বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় বসবাসকারি মোঃ লুৎফর রহমান কে মনোনয়ন দিলে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
