রাজধানীর উত্তর বাড্ডার পুরাতন থানা রোডের একটি বাসায় গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নাজমুল হক নিয়াজ (৩৩)। তিনি রাজধানীর এ এ রসায়ন শিল্প লি. নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত নিয়াজের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার চোরগোপালপুর ইউনিয়নে। তিনি বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। যে কক্ষে তাকে হত্যা করা হয়, তার পাশের কক্ষেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে এবং দুই কক্ষের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, জীবন বাঁচাতে নিয়াজ পাশের কক্ষে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে একটি টেলিভিশন এবং নিয়াজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবার জানায়, হত্যার প্রায় ১০ দিন আগে নিয়াজের স্ত্রী ফারিয়া ইসলাম জেরিন বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় ওই সময় নিয়াজ তার সহকর্মী রাহুলকে নিয়ে বাসায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার রাতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাহুল জিম থেকে ফিরে এসে বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে তিনি নিয়াজের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
নিয়াজের পরিবার দাবি করেছে, তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সুখের। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে ছিনতাই বা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি নিয়াজকে চরিত্রহীন বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী ফারিয়া ইসলাম জেরিন বলেন, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ঘটনাকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিবার আরও জানায়, ঘটনার সময় বাসার গলির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিয়াজের একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং তার সঙ্গে নিয়াজের ঘনিষ্ঠতার ফুটেজও রয়েছে।
এছাড়া, নিয়াজ যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন সেখানে একটি বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম বা মামলার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন বলেও পরিবার অভিযোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্ত শেষ হলেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তবে ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবার। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করবে এবং আইনের মাধ্যমে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
