ঢাকা, ৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণকারী মাসুম বাহিনীর প্রধান আটক, অস্ত্র উদ্ধার

অপরাধ | মনিরুল ইসলাম দুলু, বাগেরহাট প্রতিনিধি

(৯ মাস আগে) ৮ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৩:২২ অপরাহ্ন

banglahour

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণকারী চক্রের বাহিনী প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) ও তার সহযোগী মো. ইফাজ ফকির (২৫)–কে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পর্যটন শিল্প, পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের নৌকাযোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুই পর্যটকসহ রিসোর্টের মালিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে জানালে গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এ ঘটনায় দস্যু চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) ও মোছা দৃধা (৫৫)–কে সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ৭ জানুয়ারি খুলনার তেরোখাদা থানাধীন ধানখালী এলাকা থেকে বাহিনী প্রধান মাসুম মৃধা ও তার সহযোগী ইফাজ ফকির–কে আটক করা হয়।

পরে মাসুম মৃধার স্বীকারোক্তিতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি দেশীয় কুড়াল, ১টি দা, ১টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃত ডাকাত ও জব্দকৃত আলামতের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযানে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারসহ ৫২ জন জিম্মিকে মুক্ত করেছে। এসব অভিযানে ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে আছাবুর, হান্নান, আনারুল, মঞ্জু ও রাঙ্গা বাহিনী সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট সুমন, ছোটন ও কাজল মুন্না বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ, জাহাঙ্গীর ও দয়াল বাহিনী দমনে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম