কুড়িগ্রামের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে ভয়াবহ অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার চাঞ্চল্যকর চিত্র উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে সরেজমিন অভিযান চালিয়ে ৫২১ মেট্রিক টন ধান এবং সাড়ে ৩৫ মেট্রিক টনের বেশি চালের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি গুদামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ চাল পোকাধরা ও মানুষের খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী অবস্থায় পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনভর দুদকের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, “খাদ্য গুদামে মজুদ, চালের মান ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে ১২টি গুদামের মধ্যে ৪টি গুদামে ১ হাজার ১৭৬ বস্তা চালের ঘাটতি পাওয়া গেছে। কাগজপত্রে ৫২১ মেট্রিক টন ধান এবং ৫০ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪০৭ বস্তা চালের হিসাব থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া একটি গুদামে সংরক্ষিত চালের বড় একটি অংশ পোকায় নষ্ট হয়ে গেছে, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।”
দুদক জানায়, অভিযানে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরোনো ও ব্যবহৃত বস্তায় চাল মজুদ, এবং সরকারি খাদ্যশস্য বাইরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ।
ধান মজুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে একটি নির্দিষ্ট গুদামে। দুদক জানায়, ৭ নম্বর ধান গুদামে মজুদ থাকার কথা ছিল ৭২১ মেট্রিক টন ধান, কিন্তু সরেজমিন গণনায় সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ১৯০ মেট্রিক টন। বাকি ৫২১ মেট্রিক টন ধানের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী মিল মালিকদের কাছে ধান সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ওই দাবির পক্ষে তারা কোনো রেজিস্টার, হিসাব বই কিংবা প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং এর আলোকে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, “দুদকের অভিযান চলছে। অসঙ্গতির বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
