আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী আসন সমঝোতা আগামীকাল (মঙ্গলবার) চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক অভ্যন্তরীণ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে এবং আগামীকাল একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ৩০০ আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
আসন বণ্টনের সম্ভাব্য সমীকরণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসন নিজেদের হাতে রাখতে পারে। বাকি ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে জোটের শরিক দলগুলোকে। এর মধ্যে সম্ভাব্য সমীকরণগুলো হলো:
• ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৪০টি আসন
• জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP): ৩০টি আসন
• বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১৫টি আসন
• অন্যান্য শরিক (এলডিপি, এবি পার্টি, বিডিপি ও অন্যান্য): অবশিষ্ট আসনগুলোতে সমঝোতা হতে পারে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই ফয়সালা
আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। তার আগেই নির্বাচনী মাঠে ‘এক জোট এক প্রার্থী’ নিশ্চিত করতে চায় এই জোট। জামায়াত আমীর বলেন, "আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আসন বণ্টন নিয়ে মিত্রদের মধ্যে কোনো বড় সংকট নেই। দুই একটি আসনে যে টানাপোড়েন ছিল, তা আগামীকালের মধ্যেই নিরসন হবে।"
১১ দলীয় জোটে যারা আছেন
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে গঠিত এই জোটে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং বিডিপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আসন সমঝোতা সম্পন্ন হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে এবং ভোটের মাঠে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
