হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অসাধু চক্র। বিমানবন্দরের ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস ব্যবহার করে মাদক পাচার ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে ঢোকানো হচ্ছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জিটিভির অনুসন্ধানে।
জানা গেছে, বিমানবন্দর পোস্ট অফিসে পণ্য স্ক্যানিংয়ের জন্য স্ক্যানার মেশিন থাকলেও সেটি পরিচালনার মতো দক্ষ অপারেটর নেই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দুর্বল নজরদারির কারণে এই পোস্ট অফিস হয়ে অবাধে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশ করছে।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে আমদানি-রপ্তানি ও কুরিয়ার পণ্যের খালাস এবং লোড-আনলোড কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে কার্গো কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে সেই সুযোগ নেয় অসাধু চক্রগুলো।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেইটে একটি জ্যাকেটের কার্টুন থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে জানা যায়, ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থানরত প্রবাসী শামীম ফরাজি ডাকযোগে এসব ইয়াবা পাঠানোর বুকিং দেন। স্থানীয়ভাবে আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তি এই চালান পাঠানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিমানবন্দরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে আসা একটি চালান থেকে এক হাজারের বেশি ভেপ বা ই-সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এর আগেও বেশ কয়েক দফা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ও অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এসব চালানই দেশে প্রবেশ করেছে বিমানবন্দরের পোস্ট অফিসের মাধ্যমে।
বিমানবন্দর পোস্ট অফিসের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, সেখানে স্ক্যানার থাকলেও তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল নেই। তবে দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস তাদের কার্যপরিধির আওতাভুক্ত নয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে অসাধু চক্রের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোহসিন কবিরের দুই পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ দেখুন প্রথম পর্ব।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
